সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে (৩৮) গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতি শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক ফোনকলে জানান, ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। আমরা এই পরিস্থিতি প্রশমিত করার চেষ্টা করছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে এ উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এটি বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ফল। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রেস সচিব আরও জানান, ইসকনের সব ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। তাদের নিষিদ্ধ করার কোনো প্রশ্নই ওঠেনি। ভারতের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। কোনো ধর্মীয় সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার চিন্তা আমাদের নেই।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিস্থিতি যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছি। ঢাকাতেও আমার নিয়মিত চলাফেরা রয়েছে। কোথাও হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে উত্তেজনা বা সংঘাতের কোনো ঘটনা দেখতে পাইনি। অনেক ভুয়া ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ইসকন থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই অবগত। যা ঘটেছে, তাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মের কোনো অনুসারীকে আক্রমণ করা হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থান থাকবে। এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকবে।